জামালপুর প্রতিনিধি: দেশের ২৩টি সরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিসহ (আইএইচটি) আটটি প্রতিষ্ঠানে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
২০১৬ সালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ধর্মকুড়া এলাকায় শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, শিক্ষক নিবাস ও অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মিত হয়। তবে প্রায় এক দশক পার হলেও স্থায়ীভাবে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় এই প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তিনজন স্থায়ী শিক্ষক এবং ১২ জন অতিথি শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান চলছে। শিক্ষক সংকট ও জনবল ঘাটতির কারণে এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে তেমন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারছেন না বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
২০২৪ সালের (৫ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে জামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি রাখা হয়।
ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ইসলামপুরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ হলেও সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় এই প্রতিষ্ঠান এখন অবহেলিত।’ আরেক বাসিন্দা ফাইজুল্লাহ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের সময় ভেবেছিলাম আমাদের এলাকা শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে, কিন্তু বাস্তবে সেই আশায় পানি ঢেলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’
জামালপুর আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’ তবে ভর্তি স্থগিতের কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা