ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
প্রিপেইড মিটার চালুর সিদ্ধান্তকে 'জনস্বার্থবিরোধী ও হয়রানিমূলক' আখ্যা দিয়ে এর বাতিলের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম। সোমবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১২টায় ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক গ্রাহক মিছিল সহকারে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের জেলা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। পরে, ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা ব্যবস্থাপক বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার চালু করে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে অর্থ পরিশোধ করতে হয়, যা সেবামূলক খাতের নীতিমালার পরিপন্থী। রিচার্জ ফুরিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়—যা বিদ্যুৎ আইন ২০০৩-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন ফোরামের নেতারা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় নানা ধরনের অতিরিক্ত চার্জ, কমিশন এবং অপ্রকাশ্য সুদের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ, যারা দৈনন্দিন রিচার্জের টাকাও ঠিকমতো জোগাড় করতে পারেন না।
বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক মাসুদ আহাম্মদ সুবর্ণ বলেন, ‘প্রিপেইড মিটার হচ্ছে বিদ্যুৎখাতের বেসরকারিকরণ ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের কৌশল। এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কমিশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।’
তিনি বলেন, 'বিদ্যুৎ একটি মৌলিক প্রয়োজন। অথচ এখন সেটিকে একটি পণ্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা যেন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে, আমরা সেই দাবি জানাচ্ছি।'
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল, ব্যবসায়ী নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক অধিকার। তা লাভের পথ যেন দুর্বিষহ না হয়।
পরে জেলা নেসকো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল। কর্মকর্তারা দাবি ও অভিযোগ শুনে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
.
রিপোর্টাস২৪/এস