স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করে আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য রেখেছেন এ বিষয়ে। তিনি এক্ষেত্রে আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন, এমনকি অন্য দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্যও বলেছেন। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ এটিকে একটি অত্যন্ত কঠিন দাবি করে তুলেছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘নিরাপত্তার দিকটিকে অতিরঞ্জিত করলে তা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। ঝুঁকি হলো, মানবিক সংকটকে নিরাপত্তা ইস্যুতে রূপ দেওয়া। রোহিঙ্গা মানবিক সংকটকে নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত করা হলে ভুল ধরনের হস্তক্ষেপ ডেকে আনতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশকে নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’
শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার শাহবাগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (ডায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫-এর এক সেশনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সেশনের শিরোনাম ছিল- রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রত্যাবাসনের পথ এবং জীবিকার চ্যালেঞ্জ।
কুগেলম্যান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সচেতনতা তৈরির চেষ্টা শুধু মানবিক আবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এই সংকটকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ এখন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কেননা মিয়ানমারে একটি সহিংস অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী পুরো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি বিশ্বে প্রায় অনন্য একটি ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নেতারা ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে দেশের সবচেয়ে জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরছেন। অথচ বাংলাদেশ ছাড়া অন্যত্র এ বিষয়ে সচেতনতা এখনও কম। শুধু জাতিসংঘ ও কিছু ত্রাণ সংস্থাই বাস্তবে এ নিয়ে কাজ করছে।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব