এস. এম. সোহেল ইমাম (রাতিন), কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের গুরুত্বপুর্ণ দুটি সড়ক খানাখন্দে ভরে থাকায় দুর্ভোগে পথচারী, যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা। খানাখন্দ হওয়ার কারণে প্রতিদিন নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তার একটি সড়ক বিভাগের, আরেকটি পৌরসভার। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় সড়ক দুটির বেহাল দশার জন্য সংশিষ্ট দপ্তরকে দায়ি করছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে এই দুই দপ্তর। সড়কে অসংখ্য গর্তে জমে আছে বৃষ্টির কাদা পানি। ভাঙ্গা রাস্তার উপর দিয়ে চলছে যানবাহন। পথচারী আর যাত্রীদের চরম কষ্টে চলতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের ঘোষপাড়া থেকে তারামন বিবির মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাগের প্রায় দুই কিলোমিটার ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক থেকে গহওরপার্ক পর্যন্ত পৌরসভার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই চলাচলের অনুপযোগী। অথচ এই সড়কে পাশে রয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচামালসহ চালের আরদ, কাপড় মার্কেটসহ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও এই সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তিতে যানবাহনের চালক ও পথচারীরা। দ্রুত সড়ক দুটি মেরামতের দাবি ভুক্তভোগীদের।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার আওতায় ১শ ৬৩ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ৩৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে জেলা শহরের অভ্যন্তরে দেড় কিলোমিটার। আর সড়ক বিভাগের আওতায় ২শ ৭১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ৩৩ কিলোমিটার। এরমধ্যে জেলা শহরের অভ্যন্তরে ২ কিলোমিটার। এদিকে পৌরসভার আওতায় থাকা গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের আশ্বাস মিললেও গত এক বছর ধরে মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকা দরপত্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় সড়ক বিভাগ। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ করার কথা জানায় সড়ক বিভাগ।
কুড়িগ্রাম জেলায় জিয়া বাজার সবচেয়ে জেলার বড় সবজীর পাইকারী বাজার। এখানে দুর দুরান্ত থেকে লোকজন আসে। রাস্তা খারাপের কারণে লোকজন এখন কম আসে। এতে এই বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
ড্রাইভার আজগর আলী জানান, কুড়িগ্রামের মধ্যে গাড়ীর সংখ্যা অনেক বেশী। রাস্তা অনেক ছোট। একটি গাড়ী অপর গাড়ীকে সাইড দিতে পারে না। রাস্তা ভাঙ্গা। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তার কোন কাজ হয় না। আমরা গাড়ী চালাতে পারি না। এমনকি হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে কষ্ট হয়।
জেলার স্থানীয় এক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম জানান, শহরের প্রধান সড়ক দুটি সড়ক বিভাগ ও পৌরসভার। ২ বছর ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থা চলছে। মানুষের চলাচলে একেবারে অনুপযুক্ত। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি অবিলম্বে সরকার যেন রাস্তা গুলো মেরামত করে চলাচলে উপযোগী করে।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান সরকার বলেন, কুড়িগ্রাম শহরের সড়ক ও জনপদের ২ কিঃ মিঃ রাস্তা খুবই ক্ষতিগ্রস্থ। যেটি আমাদের জরুরী মেরামত করা প্রয়োজন। এই রাস্তার জন্য ২০২৪ সালে দরপত্র আহ্বান করে মন্ত্রনালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। এখনও আসেনি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আতিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম শহরের পৌরসভার প্রধান রাস্তাটি জনবহুল রাস্তা। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটির কোন সংস্কারের কাজ হয় না। লোকজন ভোগান্তিতে আছে রাস্তা নিয়ে। আমরা ইতিমধ্যে রাস্তা সংস্কারের জন্য দরপত্র আহবান করেছি। প্রক্রিয়া শেষ করেই রাস্তার কাজ শুরু হবে।
এস