আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ভারতীয় রুপির পতন অব্যাহত থেকে সোমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। ১ সেপ্টেম্বর রুপির মান ৮৮.৩৩-এ নেমে যায়, যা আগের সেশনে ধরা ৮৮.৩০৭৫-এর সর্বনিম্ন রেকর্ডকেও অতিক্রম করেছে। রুপির এই ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন ভারতের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক নীতির প্রভাবে।
ভারতের রপ্তানির উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এখন মোট ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা টেক্সটাইল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যসহ একাধিক খাতে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি না হলে রুপির স্থিতিশীলতা আশা করা যায় না, এবং প্রায়ই নতুন নিম্নস্তর ছোঁয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সবার দৃষ্টি রিজার্ভ ব্যাংকের দিকে, যারা অতীতে অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে।অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, রপ্তানির এই মন্দা কর্পোরেট আয় ও মুনাফাকেও প্রভাবিত করবে। গত তিনটি সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ২.৪ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন, যা বাজারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
রপ্তানি আয়ের হ্রাসের ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও আরও বাড়তে পারে, যা রুপির অবমূল্যায়ন কে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে। রিজার্ভ ব্যাংক যদিও বারবার বলে এসেছে যে তারা নির্দিষ্ট বিনিময় হার লক্ষ্য করে না, তবে বাজারে তাদের হস্তক্ষেপ স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।অর্থনৈতিক এই সংকটের মধ্যে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো আনুষ্ঠানিক চাকরির বাজারে ক্রমাগত পতন। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থার (ইপিএফও) তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক দ্বিতীয় বছরের মতো আর্থিক বছর ২৫-এ নেট আনুষ্ঠানিক চাকরির সৃষ্টির হার কমেছে।
আর্থিক বছর ২৩-এ যেখানে মোট ১.৩৮ কোটি নেট আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে আর্থিক বছর ২৪-এ তা কমে দাঁড়ায় ১.৩১ কোটিতে এবং আর্থিক বছর ২৫-এ আরও নেমে ১.২৯ কোটিতে পৌঁছেছে। বছরওয়ারি হিসেবে এই পতনের হার এফওয়াই২৪-এ ছিল ৫.১ শতাংশ এবং আর্থিক বছর ২৫-এ ১.৩ শতাংশ। নতুনভাবে নিবন্ধন করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাতেও বড় ধরনের হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে; আর্থিক বছর ২৫-এ ৫২,৩০৯টি প্রতিষ্ঠান প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক চ্যালান কাম রিটার্ন জমা দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৬ শতাংশ কম।
রুপির দুর্বলতা, রপ্তানির মন্দা এবং চাকরির সংকোচন মিলিয়ে অর্থনীতিতে যে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা সামলাতে সরকারের নীতি ও রিজার্ভ ব্যাংকের পদক্ষেপ আগামী দিনে পরিস্থিতি কতটা পাল্টাতে পারে, তা নিয়েই এখন ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের নজর।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম