আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি:
ভারত সরকার মঙ্গলবার (১৩ মে) জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পরমাণু যুদ্ধ ঠেকানোর’ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় যে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি প্রচলিত যুদ্ধনীতির পরিসরের মধ্যেই ছিল—এর সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র বা যুদ্ধের কোনও সম্পর্ক নেই।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপ শুধুই প্রচলিত পর্যায়ে ছিল। পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি ১০ মে বৈঠকে বসবে বলে যে খবর রটেছিল, পরে তারা নিজেই তা অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী পর্যন্ত রেকর্ডে এসে স্পষ্ট বলেছেন, এখানে কোনও পরমাণু যুদ্ধের প্রসঙ্গই ছিল না।’
তিনি আরও জানান, ভারত সবসময় একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আচরণ করে এসেছে এবং পরমাণু অস্ত্রকে রাজনৈতিক চাপে ব্যবহারের বিষয়টিকে বরাবরই নীতিগতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ‘ভারতের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়—আমরা কখনও পরমাণু ব্ল্যাকমেইলকে প্রশ্রয় দিই না এবং এটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে সীমান্তপারে সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টাকে বরদাস্ত করব না’ বলেন জয়সওয়াল।
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনায় এই বার্তাও দিয়েছি যে, এমন মনগড়া আশঙ্কা বা ধারণা মেনে নেওয়া তাদের নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার পক্ষেও ক্ষতিকর হতে পারে।’
প্রসঙ্গত, সোমবার এক সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ থেমে যায়। তাঁর কথায়, ‘আমরাই একটি পরমাণু সংঘর্ষ রোধ করেছি। এটা ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধ হতে পারত, লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হতে পারত।’
এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের তরফে আসা এই প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর ভারত নতুন এক আক্রমণাত্মক কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সোমবার, অপারেশন সিন্দুরের পর জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভারত কোনওরকম পরমাণু ব্ল্যাকমেইল সহ্য করবে না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রেখেছি, কিন্তু ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তাদের আচরণের ওপর। অপারেশন সিন্দুর আমাদের নতুন নীতি—সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নতুন দিশা।’
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, কিছু ‘উদ্বেগজনক গোয়েন্দা তথ্য’ হাতে আসার পর ওয়াশিংটন দিল্লির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়। এসব তথ্য ঘিরেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলে।
তবে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—এই সংঘাতের কোনও পর্যায়েই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ ছিল না, এবং সেই দাবি তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসলে অকারণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব