ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সাথে আলগী ও হামিরদী দু'টি ইউনিয়নের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক আশ্বাস প্রদান করেন যে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের সকল সিদ্ধান্তের আস্থা ও শ্রদ্ধা রাখতে হবে। এ দুটি ইউনিয়নকে পুনরায় জনগণের দাবী পুরণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা তাদের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় জনগণের দাবি করেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো মামলায় বিশেষ করে দুটি থানা ভাঙচুর মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি আসামি হয়ে থাকে সে বিষয়ে যথাযথভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল উপস্থিত জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন মামলায় সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করার কোন সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বিভাগের সিদ্ধান্ত হিসেবে জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশনার ও সচিববৃন্দ অবগত আছেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে দুটি ইউনিয়ন আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত জনগণকে ধৈর্য্য ধারণ করার আহবান জানান উপস্থিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল-চেয়ারম্যান (৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মেম্বর) কামরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুটি ইউনিয়নবাসীকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলেছেন। জনগণের পক্ষ থেকে ৪টি দাবী উত্থাপন করার পর জেলা প্রশাসন থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর যদি কোন আইনের সঠিক বিচার না পাওয়া যায় ১ অক্টোবর থেকে রাজপথে মানববন্ধন কর্মসূচিসহ বিবিধ কর্মসূচী পালন করা হবে দুটি ইউনিয়নের জনগণের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় উপস্থিত দুটি ইউনিয়নের জনগণের কাছ থেকে বিবিধ বিষয়ে প্রাণবন্ত আলোচনায় সকল কিছু উঠে এসেছে। জনগণ তাদের প্রাণের দাবি দুটি ইউনিয়নকে পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলার সাথে সংযুক্ত করনে দৃঢ়চিত্ত বলেছেন।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জনগণকে তাদের দাবী পুরণ করার জন্য পাশে থাকার কথা অকপটে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি না করার আহবান জানিয়েছেন ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী দু'টি ইউনিয়ন কে কেটে নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা নগরকান্দা সালথার সাথে জড়িত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৫ তারিখে দুটি ইউনিয়নের জনগণ পুনরায় ভাঙ্গা উপজেলার সাথে জড়িত করার দাবীতে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি পালন শুরু করে। জন আন্দোলন কর্মসূচি গণ আন্দোলনে রুপ নেয়।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ২য় দিন চলাকালে আন্দোলন কর্মসূচির লোকজন ঈদগাঁ মাদরাসা মসজিদের সামনে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়ে মসজিদের ভিতরে আশ্রয় নেয়। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনগণ মসজিদ ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।
সেখান থেকে তারা থানা পুলিশ স্টেশন অবরোধ করার পর পুলিশের ৯টি পিকআপ গাড়ি ভাংচুর, মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
একই সময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস, হাইওয়ে থানাসহ ইউএনও অফিস ও থানার কক্ষ ভাংচুর ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়। অবরোধ কর্মসূচি থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসার ক্লাব, গাড়ির গ্যারেজ ও ১৬টি দপ্তর প্রধানদের কক্ষ ভাংচুর, মালামাল লুটপাট, নথি গায়েব ও আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে নাশকতা চালিয়ে ঘরে ফিরে যায়। এঘটনায় ভাঙ্গার সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীকে আসামি করে একটি মামলাসহ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। জনগণের দাবীর মুখে ভাঙ্গা বিএনপির পক্ষে শহিদুল ইসলাম বাবুল খান উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এছাড়াও ভাঙ্গার জনগণের পক্ষে আরও একটা রিট পিটিশনে উচ্চ আদালত গত সপ্তাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে একটি রুল জারি করেন। আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে রুলের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনের প্রক্রিয়ায় থাকায় দুটি ইউনিয়নের জনগণ যাতে রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন নাশকতার ঘটনা সৃষ্টি না হয় এজন্য উপজেলা প্রশাসনের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জনগণের দাবী পুরণে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিষয়টি মোকাবিলা হচ্ছে বলে সকলকে ধৈর্য ধারন করার আহবান জানান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন