সাদ্দাম হোসেন, ঠাকুরগাঁও :
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহত রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তাঁরা বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে টিকা কিনে নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো প্রতিষেধক মাত্র দুই মাসেই শেষ হয়ে যায়। চলতি মে মাসে এখনো কোনো টিকা এসে পৌঁছেনি। এতে প্রতিদিন হাসপাতালে আসা রোগীরা টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, টিকা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। তাঁদের অনেকেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারিখে এসেছেন। কিন্তু টিকা না পেলে আগের ডোজের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সদর উপজেলার পীরবাড়ি গ্রামের মালেকা বেগম বলেন, “১০০ মিলিলিটার একটি রেবিস টিকায় সর্বোচ্চ চারজনকে দেওয়া যায়। তাই আমি কয়েকজনের জন্য অপেক্ষা করছি, যাতে মিলে টাকা দিয়ে বাইরে থেকে কিনে নিতে পারি।” তিনি জানান, বাইরের ফার্মেসিতে একটি টিকা ৬০০ টাকা, কখনো কখনো তার চেয়েও বেশি দিতে হয়।
রফিকুল ইসলাম নামের এক রোগী বলেন, “শিয়ালের কামড়ে আমার পায়ে গভীর ক্ষত হয়েছে। ডাক্তার ইমিউনোগ্লোবুলিন টিকা দিয়েছেন, যার দাম ১ হাজার টাকা। আমি দিনমজুর, এত টাকা কোথা থেকে আনব? জীবন বাঁচাতে এখন ঋণ করে টিকা কিনতে হবে।”
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স লুবানা আক্তার বলেন, “ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপান। সরকারি হাসপাতালে এসে টিকা না পেয়ে তাঁরা হতাশ হন।” আরেক সিনিয়র নার্স বলেন, “সরবরাহ না থাকলে আমরা কিভাবে দেবো? কিন্তু রোগীরা তা বুঝতে চায় না।”
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মনজুরুল ইসলাম বলেন, “জেলায় প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার এন্টি রেবিস ও ইমিউনোগ্লোবুলিন ভ্যাকসিনের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ আসে মাত্র ২০০ থেকে ২৫০টি। যা খুব অল্প সময়েই শেষ হয়ে যায়।” তিনি জানান, নতুন করে ভ্যাকসিন চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে সরবরাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
.
রিপোর্টার্স২৪/এস