আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন ইসরায়েলে আটক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অভিযাত্রীরা । শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)।
১ অক্টোবর যেদিন থেকে আটক অভিযান শুরু হয়, সেদিনই অভিযাত্রীরা অনশনের সিদ্ধান্ত নেন।
এফএফসির বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি নৌবাহিনী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মিশনের নৌযান, ক্রু ও অভিযাত্রীদের আটক করার প্রতিবাদে মিশনের অভিযাত্রীরা অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন।
গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও নৌযান এই বহরে যুক্ত হয়। জাহাজগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আছেন সুইডেনের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, বেলজিয়ামের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন নাগরিক।
তবে গাজার জলসীমায় পৌঁছানোর আগেই একটি ছাড়া বাকি সব নৌযান আটক করে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। আটক নৌযান, ক্রু ও আরোহীদের নিয়ে যাওয়া হয় ইসরায়েলের বন্দরে।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে প্রথম ধাপে ১৩টি নৌযান আটক করা হয়। এরপরও বাকি ৩০টি নৌযান গাজার উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একে একে ২৯টি নৌযান আটক করে ইসরায়েলি নৌ সেনারা। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে সর্বশেষ নৌযানটিও আটক করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, আটক কর্মীরা অহিংস উপায়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের অংশ হিসেবে অনশন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক আইন অমান্য না করে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উপায়ে গাজার ওপর আরোপিত ইসরায়েলি অন্যায্য অবরোধ ভাঙতে মানবিক পদক্ষেপ নিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লেবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা- এই চার সংগঠনের জোট এফএফসি। ২০০৮ সালে গঠিত হয় এই জোট। তারপর থেকে বেশ কয়েক বার গাজায় ত্রাণ পাঠিয়েছে সংগঠনটি। সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে গাজায় খাদ্য, ওষুধবাহী ৪৩টি নৌযান পাঠানোর ঘোষণা দেয় এফএফসি জোট এবং এই মিশনের নাম দেওয়া হয় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’।
কিন্তু বৃহস্পতিবার গাজার জলসীমায় কাছাকাছি যাওয়ার পরপরই একটি ব্যতীত সবগুলো নৌযান আটক করে ইসরায়েলের নৌবাহিনী।ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ,নৌযান, ক্রু এবং আরোহীদের ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেতে তাদের ইউরোপে পাঠানো হবে ।
এদিকে শুক্রবার সকালে সুমুদ গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সর্বশেষ জাহাজটিও আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। পোল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘ম্যারিনেট’ নামের ওই জাহাজটিতে ছয়জন ক্রু রয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: আনাদোলু, আলজাজিরা
এসসি