ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, দেয়ালে ফাটল ধরে রড বেরিয়ে পড়েছে, বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকছে চিকিৎসকের কক্ষ ও ল্যাবে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে ঠাকুরগাঁও জেলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা। প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা। আতঙ্ক নিয়েই হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।
১৯৬৩-৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটি এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে, আর বৃষ্টির সময় পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে ল্যাবের মূল্যবান সরঞ্জাম।
ক্লিনিকের রেকর্ড অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলায় যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিপজ্জনক এই ভবনে টিকে থাকার জন্য বারবার গণপূর্ত বিভাগে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
দ্বিতল ভবনটিতে মেডিকেল অফিসার রুম, ল্যাবরুম, অফিস, জিন এক্সপার্ট মেশিন কক্ষ, কনসালটেন্ট রুমসহ মোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষেই এখন ফাটল আর ভাঙাচোরা চিত্র।
সদর উপজেলার রোগী সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমি আট বছর আগে এখানে চিকিৎসা নিয়েছিলাম, তখনও একই অবস্থা ছিল। এখনো কিছুই বদলায়নি, বরং অবস্থা আরও খারাপ। ছাদের ঢালাই খসে পড়ে কিনা, সেই ভয় লাগে।’
অফিস সহায়ক আজিজুর রহমান জানান, “ফাটল ধরায় ল্যাবে পানি ঢুকে যায়। এতে কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা সারাদিন আতঙ্ক নিয়ে কাজ করি।”
স্টোরকিপার নুর ইসলাম বলেন, “অফিসে কাজ করার সময় অনেক সময় ঢালাই ধসে পড়ে। তবু চাকরির প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়।”
ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডা. শুভেন্দু কুমার দেবনাথ বলেন, “ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, অনেক জায়গায় পানি পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে এই ক্লিনিককে ৩১ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তরের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ১৮ বছর পরও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাজিদার রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
রিপোর্টার্স২৪/এসএন