ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : কৃষকরা মাঠে নিয়মিত ফসল পর্যবেক্ষণ করে গাছের পুষ্টি ও রোগ-বালাইয়ের ঘাটতি বা সমস্যা সহজেই বুঝতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তাই তাদের নিয়মিত মাঠে উপস্থিতিই ফসলের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসা বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে 'জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের কলাকৌশল' বিষয়ক চাষী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি একথা বলেন।
দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলার ৩০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসিরুল আলম এবং কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ কৃষক-কৃষাণীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
কর্মশালায় কৃষকদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাছ তো কথা বলতে পারে না। আপনি (কৃষকরা) নিয়মিত মাঠে যাবেন, পর্যবেক্ষণ করবেন। গাছের রোগ বা পুষ্টির ঘাটতি নির্ণয়ের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি গাছের পুরাতন পাতায় হলুদ বর্ণ ধারণ করে, তবে তা নাইট্রোজেনের সমস্যা নির্দেশ করে, সেক্ষেত্রে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। আবার, গাছের কোনো প্রকার পুষ্টির অভাব বা জিংকের ঘাটতি হলেও কৃষকরা লক্ষণ দেখে বুঝতে পারেন।
তিনি আরও যোগ করেন, মাটিতে ১৭ প্রকার পুষ্টি উপাদান থাকে। এর কোনো একটির অভাব হলেই অপুষ্টিজনিত লক্ষণ প্রকাশ পায়, যা দেখে কৃষকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন। অর্থাৎ ফসলে যে ঘাটতি দেখা দিবে, সেই অনুযায়ী ওই সার ব্যবহারে পরামর্শ দেন তিনি।
পোকা লাগলে বা রোগাক্রান্ত হলে চাষীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর আলম কৃষকদের সতর্ক করে বলেন, "আপনি যখন মাঠে না যাবেন, মনিটরিং না করবেন, তখন ওই ফসল রোগাক্রান্ত হবে এবং এই রোগ আরো বাড়তে থাকবে। পরিশেষে আপনারা ওই ফসলের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটবে। এজন্য পরিবেশকে ঠিক রেখে চাষাবাদ করার ওপরও জোর দেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে