ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দুবড়া গ্রামে সোমবার রাতে হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একজন তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্ন।
প্রচণ্ড ঝড়ে উড়ে যায় খামারের টিনের চালা, ভেঙে পড়ে কাঠামো। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ও পানিতে ডুবে মারা যায় খামারে থাকা প্রায় ১,৪০০ মুরগি।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারটি ছিল চোখা মিয়ার, যিনি নিজের সঞ্চয় আর স্বপ্ন নিয়ে তৈরি করেছিলেন এই মুরগির খামার। তিনি বলেন, “এটা শুধু একটা খামার না, এটা ছিল আমার জীবনের বড় স্বপ্ন। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।” ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে মুহূর্তেই খামারের ছাদ উড়ে যায়, কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় পুরো খামার এলাকা।
চোখা মিয়া স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন যেন নতুন করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
ঝড় শুধু চোখা মিয়ার খামারই নয়, উপজেলার ভোমরাদহ ও কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের সেনুয়া, বাঁশবাড়ি, কাঁচন ও দুবড়া গ্রামেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘূর্ণিবাতাসে প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছপালা, ঝরে পড়েছে কাঁচা আম ও লিচু। নুয়ে পড়েছে বোরো ধান ও ভুট্টার ক্ষেত।
ঝড়ে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।”
.
রিপোর্টার্স২৪/এস