ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলায় টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে রোপা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আধাপাকা ধান শুয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শুধু সদর উপজেলাতেই ১৮ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। অন্য উপজেলাগুলোর ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
বুধবার(২৯ অক্টোবর) সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ‘হলুদ হয়ে আসা ধানের খেতগুলো বৃষ্টিতে মাটিতে লুটিয়ে আছে। একের পর এক জমির ধান শুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগে কৃষকেরা।’
সদর উপজেলার কচুবাড়ি এলাকার কৃষক হোসেন আলী চার একর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। ‘তাঁর কণ্ঠে হতাশার সুর, অনেক কষ্ট করে আবাদ করেছি। এখন যখন কাটার সময়, তখনই বৃষ্টি এসে সব নষ্ট করে দিল। জমিতে পানি জমে শীষ ভিজে যাচ্ছে, ফলন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।’
আকচা এলাকার কৃষক জগেশ্বর বর্মণ বলেন, ‘যে ধানগাছ শুয়ে পড়েছে, তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই পোকা ধরবে। তখন ধান চিটা হয়ে যাবে। এত পরিশ্রমের ফসল এভাবে নষ্ট হতে বসেছে, ভাবতেই পারছি না।’
সালান্দর এলাকার কৃষক সামিউল ইসলাম জানান, ‘গত বছর ধানের ভালো দাম পাইনি। এবার ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু এই ঝড়-বৃষ্টি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।’
এদিকে বেগুনবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত এই সময় আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু এবারের আকস্মিক বৃষ্টিতে শুধু কৃষিই নয়, দিনমজুরদের জীবনও বিপর্যস্ত হয়েছে। সারাদিনের বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষ কাজ করতে পারেননি, ফলে আয়-রোজগার বন্ধ ছিল।’
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, ‘নিম্নচাপের প্রভাবে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি—যেসব জমিতে ধান শুয়ে পড়েছে, সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে। এতে ক্ষতি কিছুটা কমবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।’
রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা