ফেনী প্রতিনিধি: সংস্কারের শেষে ফেনীর দ্বিতীয় কারাগার চালু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং ফেনী জজ আদালতে বিচারাধীন আসামিদের রাখা হবে এই কারাগারে। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে বন্দিদের ফুল দিয়ে বরণ করার মধ্য দিয়ে কারাগার কার্যক্রম শুরু হয়।
কারা সূত্র জানায়, দেশের পুরোনো চারটি কারাগারের মধ্যে ফেনী-২ একটি যা শত বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ কারাগার ভবন ছিল । এ কারণে ২০১৯ সালে ১২ জানুয়ারি এ কারাগার থেকে বন্দিদের ফেনীর শহরতলির রানীরহাট এলাকার নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে কারাগারটি বেশিরভাগ সময় ‘পরিত্যক্ত’ অবস্থায় ছিল।
নতুনভাবে চালু হওয়া কারাগারটি ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত। ১৯১৫ সালে সাবজেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৮ সালে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হয়। কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৭২ জন, যার মধ্যে ১৭০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। কারাগার চালু করার জন্য শুক্রবার কুমিল্লা জেলা কারাগার থেকে ২৪ জন এবং চট্টগ্রাম থেকে চারজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে আনা হয়েছিল। তারা কারাগারের রান্নার দায়িত্ব পালন করবেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ধাপে ধাপে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দিদের ফেনী-২ কারাগারে স্থানান্তর করা হবে। আপাতত কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৬ জন, কুমিল্লা থেকে ৭৪ জন, নোয়াখালী থেকে ১৫ জন, লক্ষ্মীপুর থেকে ৪ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৩৩ জন বন্দি আনা হবে। কারাগারে সেল, রান্নাঘর, কিশোর ওয়ার্ড, মসজিদসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ কারাগার নিয়ে বর্তমানে দেশে কারাগারের সংখ্যা ৭১।
জানতে চাইলে ফেনী-২-এর জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন, “রাষ্ট্র চায়, কারাগার শুধু শাস্তির জায়গা নয়, সংশোধনের কেন্দ্র হোক। সংস্কারের পর ফেনী-২ কারাগার এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চালু হয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত জেলা কারা কর্মকর্তা ফেরদৌস মিয়া জানান, “স্থানান্তরিত বন্দিদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সও যোগদান করেছেন এবং বেশিরভাগ পদে কর্মচারীরাও কাজ শুরু করেছেন।”
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা