চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েনসহ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে কিছু ব্যক্তি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি গোয়ালপাড়া গ্রামের পাঁচজন অপহরণের ঘটনায় মঈন উদ্দীন ময়েনসহ বিএনপি নেতাদের নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ উদ্ধার হওয়া স্বপন আলীসহ ভুক্তভোগীরা নিজেই বলেছেন, অপহরণে জড়িত ছিলেন যশোর এলাকার আব্দুল মজিদ, শাহিন, সাইফুল, রুহুল ও লালন—যারা ভারতীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সহযোগী। জীবননগরের কেউ এর সঙ্গে জড়িত নয়।”
বক্তারা আরও বলেন, অপহরণের কয়েকদিন পর মঈন উদ্দীন ময়েন ভুক্তভোগীদের পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি জানতে গিয়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন। অথচ এই ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটনের জন্য।
এ সময় উপস্থিত অপহৃত স্বপন আলীসহ উদ্ধার হওয়া চারজন জানান, “আমাদের অপহরণের সঙ্গে যশোরের কয়েকজন ও ভারতীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জড়িত ছিলেন। জীবননগরের কেউ নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েন, সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দিন বাদল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আল হাসান মোহাম্মদ আবু তালেব, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়ুব আলী, যুগ্ম সম্পাদক টিটু, সহসভাপতি বিপলুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চোরাচালানের স্বর্ণ আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে গত ১২ ও ১৩ অক্টোবর জীবননগরের গোয়ালপাড়া গ্রামের পাঁচজন—শফিকুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, হাসান মিয়া, আবুল হোসেন ও স্বপন ইসলাম—অপহৃত হন। গত বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও বিশেষ টিমের যৌথ অভিযানে যশোরের হাজিরবাগ ইউনিয়নের কুল্লা গ্রামের একটি খামারবাড়ি থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন