রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর তার স্ত্রী হানান এলাত সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তাঁর স্বামীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হানান এলাত বলেন, যুবরাজের উচিত তাঁর প্রতি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া। তিনি বলেন, তাঁর উচিত আমার সামনে এসে ক্ষমা চাওয়া। আমার জীবনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ওয়াশিংটনে ক্রাউন প্রিন্সকে দেখতে পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল উল্লেখ করে হানান এলাত বলেন, তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারেন, কিন্তু প্রকৃত শাসক নন। জামালের হত্যাকাণ্ড আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে যুবরাজকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া তাকে ব্যথিত করেছে বলেও জানান হানান এলাত। এএফপি-কে তিনি বলেন,এটি আমাকে গভীরভাবে আহত করেছে, এবং হতাশ করেছে।
২০১৮ সালে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভিতরে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের সম্পৃক্ততা রয়েছে। খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন এবং ওয়াশিংটন পোস্টে সৌদি সরকারের সমালোচনামূলক কলাম লিখতেন।
ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেন প্রশাসন ২০২১ সালে যে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করে, তাতে বলা হয়েছিল খাশোগি হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ নিজেই। তবে ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, তাঁর অতিথি এ ঘটনার ব্যাপারে জানতেন না। ২০১৮ সালের হত্যাকাণ্ডের পর এটাই ছিল মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রথম হোয়াইট হাউস সফর।
হানান এলাত আরও জানান, তিনি ন্যায়বিচারের পাশাপাশি নিজের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চান। তিনি বলেন, যুবরাজ ২০১৯ সালে ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, সৌদি আরবের কার্যত নেতা হিসেবে খাশোগি হত্যার দায়িত্ব তিনি নিচ্ছেন। যেহেতু এটি সৌদি সরকারের কর্মরত ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, তাই ক্ষতিপূরণ হবে একটি সদিচ্ছা, যার মাধ্যমে ঘটনার সমাধান সম্ভব।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি