ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর ও হরিপুর উপজেলায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজনের অপমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নিহতদের পরিবার জানায়, ঘটনাগুলোতে কারো বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
ঠাকুরগাঁও শহরের রায়পুর আশ্রমপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে অসুস্থ স্মৃতি রানী (৩৯) ভোররাতে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তিনি ঘুমাতে যান। সকালে স্বামী সরবেশ চন্দ্র বর্মন রুমে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা জানান—অসুস্থতা, যন্ত্রণা ও মানসিক কষ্টে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
হরিপুর উপজেলার বকুয়া ধনগাঁওয়ের মঙ্গল সিংহ (৮২) স্থানীয় একটি ইটভাটায় নাইটগার্ড হিসেবে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে টয়লেটে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। ভোরে আরেক নাইটগার্ড তাকে টয়লেটের ভেতরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। দ্রুত উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার জানায়, মঙ্গল সিংহ দীর্ঘদিন অভাবের মধ্যে কাজ করে জীবিকা চালাতেন।
এদিকে শহরের গোয়ালপাড়ার আনসার সদস্য দবিরুল ইসলাম (৪৫) মোটরসাইকেলে শিবগঞ্জ যাওয়ার পথে আমতলী রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় আন্তনগর কাঞ্চন কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দবিরুল সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।
তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যেরা বলেন, এ ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, আলোচনা–পরামর্শের ভিত্তিতে তারা থানায় অপমৃত্যুর সংবাদ দিয়েছেন। পুলিশ তিনটি ঘটনাই অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন