রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আজ ৬ ডিসেম্বর, লালমনিরহাট জেলা স্মরণ করছে পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লালমনিরহাট শহর পাকবাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটে বাধ্য হন। তবে পালানোর আগে তারা শহর ও আশেপাশের এলাকায় চালায় বিপুল লুটপাট ও গণহত্যা। আজও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা একাধিক গণকবর সেই নৃশংসতার নীরব সাক্ষী।
এর আগে ৩ মার্চ সকালে লালমনিরহাট দখলে নেয় পাকবাহিনী। একই সঙ্গে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধের আগে লালমনিরহাটে বসবাস করা উর্দুভাষী বিহারি সক্রিয়ভাবে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করত। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী বাঙালিদের বাড়িঘর লুটপাটে অংশ নিত এবং নারীদের অপহরণ করত।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে পাকবাহিনী হেলিকপ্টারে লালমনিরহাটে পৌঁছালে স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধারা বিমানঘাঁটিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ওসি মীর মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বাঙালি পুলিশ ও সাধারণ মানুষ যৌথভাবে পাকবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এতে বহু পাকিস্তানি সেনা ও অবাঙালি নিহত হয়।
৬ ডিসেম্বর, মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা তিনদিক থেকে লালমনিরহাট শহর ঘিরে আক্রমণ চালান। তীব্র লড়াইয়ে পাকিস্তানি বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন থেকে রংপুর ও সৈয়দপুরের দিকে পালায়। পালানোর সময় তারা তিস্তা রেল সেতুতে বোমা নিক্ষেপ করে সেতুর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
লালমনিরহাট শত্রুমুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরে মানুষ ঢলে আসে। সন্ধ্যায় মিশন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ৭ ডিসেম্বরও শহরের রাস্তায় বের হয় আনন্দমিছিল, যেখানে স্বদেশপ্রেমী মানুষ বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ উদযাপন করে।
দখলমুক্তির আগের দিন ৫ ডিসেম্বর, রেলওয়ের অফিস ও আবাসিক এলাকায় পাকবাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় ৩৭৩ জন নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করে। এখনও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তর এলাকায় তিনটি গণকবরসহ বধ্যভূমি বিদ্যমান।
মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য লালমনিরহাটের দুই কৃতি সন্তান শহীদ ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন (বীর বিক্রম) এবং ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল হক (বীর প্রতীক)—রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। মেজবাহ উদ্দিন আহমদ, লালমনিরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার, জানিয়েছেন যে জেলার গণকবর চিহ্নিতকরণে মুক্তিযোদ্ধারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। জেলা প্রশাসক এইচ.এম. রকিব হায়দার জানিয়েছেন, মুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম