রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে ছিল। কাতারের ব্যবস্থাপনায় জার্মানিভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতিও পেয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গেছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে অপারেটর প্রতিষ্ঠানটি পূর্ববর্তী অনুমতি প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়। এর ফলে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) কোনো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসছে না, এবং খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাত্রাও আপাতত স্থগিত থাকছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বেবিচকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ স্থানীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্লট অনুমোদন প্রত্যাহারের আবেদন করেছে। আমরা বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি।
এর আগে রোববার জমা দেওয়া প্রাথমিক আবেদনে উল্লেখ ছিল। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকায় নামবে এবং একই রাত ৯টায় লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবে। কাতার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আনা অ্যাম্বুলেন্সটি ছিল বোমবার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০৪ মডেলের একটি বিশেষায়িত মেডিকেল জেট দীর্ঘ দূরত্বের রোগী পরিবহনে যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে ভুগছেন। লিভার সিরোসিস, হৃৎপিণ্ডের জটিলতা, কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ একাধিক দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা তার শারীরিক অবস্থাকে ক্রমেই অবনতি ঘটাচ্ছে।
২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার অবস্থার অবনতি শুরু হয়। পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ায় ২৭ নভেম্বর তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি এখনো ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
বিদেশে নেওয়ার সব আয়োজন চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও, ঠিক কোন কারণে অ্যাম্বুলেন্স অপসারণের আবেদন করা হয়েছে—তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম