রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচনে ২০০ আসন পেলেও জামায়াত এককভাবে সরকার গঠন করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিজয়ী হলে একক সরকারের পথে না হেঁটে বরং জাতীয় সরকারের মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী।
তিনি আরো জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, রাজনৈতিক স্থিতি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় সরকারই তাদের প্রথম পছন্দ।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে ইইউর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা, দলীয় ইশতেহার এবং নির্বাচনের পরবর্তী প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয় বলে জানান জামায়াত আমির। জবাবে তিনি ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন। ক্ষমতায় গেলে তাদের দল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের জাতীয় সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত দেশকে টেনে তুলতেই। কমপক্ষে আগামী পাঁচ বছর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নির্মূলের জন্য সব রাজনৈতিক পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর সরকার গঠন করা জরুরি। তিনি আরও জানান, তাদের প্রস্তাবিত জাতীয় সরকারে অংশ নিতে হলে দুইটি মৌলিক শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, নিজে কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়ানো যাবে না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না; দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে ইইউর প্রশ্নে তিনি মত দেন, জনগণের সচেতনতা ও নির্বাচন কাঠামোর বাস্তবতা বিবেচনায় দুটো ভোট আলাদা হওয়াই বেশি যৌক্তিক। একই দিনে নির্বাচন হলে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তবে নির্বাচন পেছানোর কোনো যুক্তি নেই উল্লেখ করে বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত, আমরা পিছিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন দেখি না।
সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি (পিআর) নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জনগণের স্বার্থেই তারা এই পদ্ধতির দাবি তুলেছে। ক্ষমতায় গেলেও পিআর বাস্তবায়নের প্রতি দলের প্রতিশ্রুতি অটুট থাকবে বলে তিনি জানান। তার ভাষায়, অতীতের ‘জিতে গেলে পিআর আর দরকার নেই’এই সংস্কৃতি ভেঙে দিতে তারা বদ্ধপরিকর।
রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, “ধর্ম আমাদের চিন্তার অংশ, অন্তরের ব্যাপার; এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাইনি এবং বানাবও না। অন্যরা নির্বাচনের সময়ে টুপি-তসবিহ নিয়ে ঘোরে—আমরা তা করি না। আমরা ধর্মকে বাহ্যিক সাজসজ্জা হিসেবে নয়, অন্তরের বিশ্বাস হিসেবে ধারণ করি।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম