রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভারতসহ কয়েকটি দেশের চাল আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ভারতীয় চাল রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, বিশেষত বাসমতি চালের ক্ষেত্রে এই শুল্কভার ভারতের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে না। বরং নতুন শুল্ক আরোপ হলে এর বোঝা বহন করতে হবে মার্কিন ভোক্তাদেরই।
অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয় ভাল্লোতিয়া বলেন, ট্রাম্প যেভাবে ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে একসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, তা থেকে ধারণা করা যায় এটি মূলত নন-বাসমতি চালকে কেন্দ্র করে। কারণ ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে শুধুই নন-বাসমতি চাল রপ্তানি করে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক বাসমতি চালেও প্রযোজ্য হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাসমতি চালের রপ্তানি নন-বাসমতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। এখন ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেন, তা দেখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের চাল রপ্তানি
২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৩৭.১০ মিলিয়ন ডলারের বাসমতি চাল রপ্তানি করেছে, পরিমাণ ২ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। নন-বাসমতি চাল রপ্তানি হয়েছে ৫৪.৬৪ মিলিয়ন ডলারের, পরিমাণ ৬১ হাজার টনের বেশি। বাসমতি চালের বাজারে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম গন্তব্য।
মোট মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের চাল রপ্তানির মূল্য প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন ডলার।
বর্তমান শুল্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন শুল্ক আরোপের আগে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় চালের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক নিত। পরবর্তী বাড়ানো শুল্কে তা ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবুও রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি, কারণ শুল্কের চাপ বেশিরভাগই মার্কিন বাজারে খুচরা দামে এসে পড়েছে। ফলে ভারতের কৃষক ও রপ্তানিকারকের আয় স্থিতিশীল রয়েছে।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন (আইআরইএফ) বলছে, ভারতীয় বাসমতি চালের স্বতন্ত্র গুণ সুগন্ধ, স্বাদ, লম্বা দানা মার্কিন চালের মাধ্যমে পূরণ হয় না। তাই এ চালের বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্রে এটি মূলত দক্ষিণ এশীয় ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অভিবাসী জনগোষ্ঠী ব্যবহার করে থাকেন, এবং এ চাহিদা স্থিরভাবে বাড়ছে বিশেষ করে বিরিয়ানি ও ঐতিহ্যবাহী পদগুলোর কারণে।
ভারতের চাল শিল্প স্থিতিশীল
রপ্তানিকারকরা আরও বলেন, ভারতীয় চাল রপ্তানি এখন বিশ্বব্যাপী বহুমুখী বাজারে বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্ভরতার কেন্দ্র নয়। ভারত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যসম্পর্ক জোরদার করছে এবং নতুন বাজারও খুলছে।
ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট দেব গার্গ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাজার হলেও ভারতের রফতানি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। সরকার ও রফতানিকারকরা একসঙ্গে কাজ করছে আরও বাজার সম্প্রসারণে।
ট্রাম্প কী বলেছেন
হোয়াইট হাউসে কৃষকদের জন্য নতুন অর্থ সহায়তা ঘোষণা করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ভারতসহ কয়েকটি দেশ নাকি চাল ‘ডাম্পিং’ করছে এবং এর ফলে মার্কিন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তিনি ‘এর ব্যবস্থা নেবেন’ বলে সতর্ক করেন।
তার ভাষায়, “তারা ডাম্পিং করবে না। আমরা এটা শুনেছি। এটা চলতে দেওয়া যাবে না।”
রিপোর্টার্স২৪/এসসি