রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে দিন দিন বাড়ছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে বাইরে বের হতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষজন। জীবিকার তাগিদে বের হলেও শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়, শুকনো পাতা বা কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের কৃষক বাদশা মিয়া (৫০) বলেন, ঘন কুয়াশা আর প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা যাচ্ছে না। বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। শীত আরও বাড়লে ফসলের বড় ক্ষতি হতে পারে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আনিছুর রহমান জানান, বোরো বীজতলার চারা রোপণের উপযোগী হলেও ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে জমিতে নামা যাচ্ছে না। বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখতে হচ্ছে, বলেন তিনি।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা শীতের কারণে আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শীত যত বাড়ছে, ততই অসহায় হয়ে পড়ছে চরবাসী। জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র সহায়তা না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে, বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে বসবাস করেন। প্রায় ২০টি চরে বসবাসরত ১৬ হাজার মানুষ চরম শীতকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারি সহায়তা হিসেবে মাত্র ১০০টি কম্বল পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য, বলেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, আপাতত শীতের কারণে বড় ধরনের ফসল ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে বোরো বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। এজন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকতে পারে। তবে মাসের শেষের দিকে একটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম