স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপির এই শীর্ষ নেতার দেশে প্রত্যাবর্তন নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে থাকা শঙ্কা দূর করেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আখতার হোসেন বলেন, দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলেও নির্বাচন হবে কি না—এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হয়েছে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন, তারেক রহমান দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখবেন, তা সকলের নজর কাড়বে। তিনি বলেন, “তারেক রহমান নির্বাসনে থেকেও বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন জাতীয় রাজনীতিতে তার ভূমিকা কী হবে, সেটি একটি বড় বিষয়।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে তিনি একটি বিশেষ বাসে করে গণসংবর্ধনা মঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বাসে করে প্রায় ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের যাত্রার পর তিনি মঞ্চে পৌঁছে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
গণসংবর্ধনা মঞ্চে উদাত্ত কণ্ঠে জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা মার্টিন লুথার কিং-এর নাম শুনেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আমি আপনাদের সকলের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাই—‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ফর দি পিপল অব মাই কান্ট্রি। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এটি আমরা বাস্তবায়ন করব।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা পাশে থাকলে আমরা সেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।
জানা যায়, ২০০৭ সালে ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। এক বছর কারাভোগের পর ২০০৮ সালে মুক্তি পান এবং চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনে যান। এরপর থেকে তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করেন। দেশে ফিরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!