ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকাদান বন্ধ হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে ঝুলছে তালা। সরকারি সরবরাহ না থাকায় সাধারণ রোগীদের বাজার থেকে চড়া মূল্যে টিকা কেনার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে শহরের ফার্মেসিগুলোতেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত এই ইনজেকশন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত শত শত মানুষ।
বুধবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জলাতঙ্ক ইউনিটের বন্ধ দরজায় একটি সাদা কাগজে হাতে লেখা জরুরি বিজ্ঞপ্তি টাঙানো। সেখানে লেখা— “ইনজেকশন রেবিক্স ও আরআইজি সরকারিভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরবরাহ বন্ধ আছে। বিধায় নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করুন। সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখিত।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে জেলায় ৩ হাজার ৪৫০ জন রোগী বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই সময়ে ১৪ হাজার ৩৩৩ ভায়াল এআরবি টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় আরআইজি টিকার সরবরাহ গত কয়েক বছর ধরেই নেই। বর্তমানে সাধারণ টিকাটিও শেষ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষ।
সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন থেকে আসা ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ছোট মেয়েটাকে কুকুরে কামড়েছে। হাসপাতালে আসলাম টিকার জন্য, কিন্তু ডাক্তাররা বললেন টিকা নেই। বাইরে কিনতে গেলাম, কোনো দোকানেই নেই। এখন মেয়েটাকে নিয়ে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।”
শহরের মা ফার্মেসির কর্মচারী রবিউল ইসলাম বলেন, “সরকারিভাবে এই ইনজেকশন বিনা মূল্যে দেওয়া হতো বলে কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এখন হঠাৎ সরকারি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাজারে হাহাকার পড়ে গেছে। আমাদের কাছে অর্ডার থাকলেও টিকা দিতে পারছি না।”
ঠাকুরগাঁও শহরে টিকা না পেয়ে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে রংপুরে যাচ্ছেন। সেখানকার বেসরকারি ফার্মেসি থেকে চড়া দামে টিকা সংগ্রহ করছেন তারা।
রংপুর থেকে টিকা এনে শহরের ইসলামবাগ এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ শামীমা আক্তার বলেন, “আমার ছেলেকে বিড়ালে কামড়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কোনো দোকানে রেবিক্স ভ্যাকসিন পাইনি। শেষে এক আত্মীয়র মাধ্যমে রংপুর থেকে দ্বিগুণ দামে টিকা আনিয়েছি। সাধারণ মানুষের পক্ষে এভাবে অন্য জেলা থেকে টিকা আনা সম্ভব না।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বালিয়াডাঙ্গী থেকে আসা দিনমজুর খলিল মিয়া। তিনি বলেন, “হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রংপুরে গেলে পাওয়া যেতে পারে। ধার-দেনা করে সেখানে গিয়েছিলাম। যাতায়াত আর টিকার খরচ মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। সরকারি হাসপাতালে টিকা থাকলে আমাদের মতো গরিব মানুষের উপকার হতো।”
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “এতদিন সিডিসি (অপারেশন প্ল্যান) থেকে আমরা সরাসরি টিকা পেতাম। বর্তমানে সেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এখন ঢাকা সিএমডিসির মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ টিকা আসবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন