দিনাজপুর প্রতিনিধি: প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দিনাজপুরে বিশেষ ডিভাইসসহ ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে জেলার ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক পরীক্ষার্থীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন গার্লস হাই স্কুল থেকে ২ জন
দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ১ জন,কাদের বক্স মেমোরিয়াল কলেজ (বিএম)থেকে ২ জন,কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১ জন,দিনাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন,দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ১ জন,দিনাজপুর জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন,দিনাজপুর মিউনিসিপাল হাই স্কুল থেকে ১ জন,
দিনাজপুর নূরজাহান কামিল মাদ্রাসা থেকে ৫ জন,দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ১ জন,কেরি মেমোরিয়াল হাই স্কুল থেকে ১ জন,এসব কেন্দ্র থেকেই পরীক্ষার্থীদের ডিভাইসসহ আটক করা হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ বলছে বড় চক্র জড়িত
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন বলেন,জেলায় ৪৫টি কেন্দ্রে মোট ৩৩ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আগেই জানতে পারি, পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চলছিল।
তিনি আরও বলেন,অপরাধ সংঘটনের আগেই আটক করলে অনেক সময় প্রকৃত অপরাধ ও চক্র শনাক্ত করা কঠিন হয়। তাই আমরা কৌশলগতভাবে অপেক্ষা করছিলাম। এই ডিভাইস চক্রটি ঢাকা থেকে এসে দিনাজপুরের বিভিন্ন গ্রাম ও নির্জন এলাকায় অবস্থান করে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে এবং ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করছিল।
১৫ লাখ টাকার চুক্তি
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান,প্রতিটি ডিভাইস ব্যবহারকারীর সঙ্গে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে চেক, শিক্ষাগত সনদ ও প্রবেশপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জামানত হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। চক্রটির বিস্তৃতি অনেক বড়। আমরা মূল হোতাকে শনাক্ত করেছি, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দিনাজপুরে মোট কতগুলো ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছে, তা নির্ণয়ের চেষ্টা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি