রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের তরুণরা ইতোমধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে তারা ব্যালটে থাকবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি নিশ্চিত, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ান এ আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সেদিন তারা আমাদের ক্লাসরুমে ছিল, এখন তারা রাস্তায় নেমেছে এবং এরপর তারা নিজেদের রাজনৈতিক দলে দৌড়াচ্ছে। তারা নির্বাচিত হলে কেউ না কেউ শিক্ষামন্ত্রীও হতে পারে।
তিনি শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে হবে। কারণ, পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকেও এগোতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এখন ২০২৬ সালের জানুয়ারি। এই সময়ের মধ্যেই অনেক কিছু বদলে গেছে। আমাদের কোথায় আছি, কী মিস করছি এবং কীভাবে পিছিয়ে না পড়ে সামনে এগিয়ে থাকা যায় সেটাই আজকের বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষার নামে যেসব ত্রুটি দীর্ঘদিন ধরে চলেছে, সেগুলো সংশোধন না করলে তা বারবার ফিরে আসবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ নেতাদের আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে তারা ব্যাখ্যা করতে পারেন কেন তারা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কী অনুপস্থিত ছিল।
শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ড. ইউনূস বলেন, সম্ভবত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাই ভুল। আমরা একে চাকরিমুখী করে তুলেছি। শিক্ষার উদ্দেশ্য কি কেবল চাকরির বাজারে উপযুক্ত কর্মী তৈরি করা?
তিনি বলেন, চাকরিমুখী শিক্ষা মানুষকে সৃজনশীলতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং এক ধরনের দাসত্বে পরিণত করে।
মানুষ দাস হিসেবে জন্মায় না। মানুষ জন্মগতভাবে সৃজনশীল। চাকরি হলো আদেশ মানার সংস্কৃতি, যা সৃজনশীলতাকে দমিয়ে দেয়। যে তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল, তারা দাস হতে অস্বীকার করেছিল। তারা আদেশ নিতে অস্বীকার করেছে সেখান থেকেই সংঘর্ষের শুরু,বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, এই বাস্তবতায় শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত সৃজনশীল মানুষ তৈরি করা, যারা উদ্যোক্তা হবে, নতুন কিছু সৃষ্টি করবে কেবল চাকরির জন্য অপেক্ষা করবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আসছে। অভ্যুত্থান অনেক কিছু ভেঙে দিয়েছে। সেগুলো পুনর্গঠনের জন্য তরুণরা তাদের নিজস্ব ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছে। ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটি নির্ধারণ হবে জনগণের ভোটের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ভুল করার সুযোগ নেই। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি