আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলমান হামলা ও ভয়াবহ মানবিক সংকটের কারণে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হয় ১৬ বছর বয়সী কিশোর মোহাম্মদ রায়েদ আল-বারাওয়ি। একই দিনে গাজায় আরও দুইজন—একজন কিশোরী ও এক বৃদ্ধা—নিহত হন।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। রামাল্লাহর কাছে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হয়েছে ১৪ বছর বয়সী কিশোর মোহাম্মদ সাদ না’সান। একই সময় বেইতা ও হুয়ারা এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ভয়াবহ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, গাজায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে এবং উপযুক্ত সহায়তা পেলে তা পরিষ্কার করতে কমপক্ষে সাত বছর লাগবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৪৫৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরায়েলে হামলায় নিহত হয় ১ হাজার ১৩৯ জন এবং প্রায় ২০০ জনকে বন্দি করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা