রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার ঘোষণা দিতে দেখে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির প্রশংসা করেছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরান ৮০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে সরে এসেছে। আমি এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সম্মান জানাই।”
ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বিষয়টি তুলে ধরে লিখেছেন, “ধন্যবাদ, ইরান।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আসে এমন এক পরিস্থিতিতে যখন ইরানে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চলছিল। যদিও ওই বিক্ষোভ এখন অনেকটা স্তিমিত, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, নিহতের সংখ্যা এখনও বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রশংসা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিজে স্বাধীনভাবে এই মন্তব্য করেছেন এবং কোনো বিদেশি চাপের কারণে নয়।
তিনি আরও বলেন, “গতকাল ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ ফাঁসির মুখে পড়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা কাউকে ফাঁসি দেয়নি। ইরানের এই সিদ্ধান্ত আমার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন প্রক্রিয়া বা আলোচনার ভিত্তিতে এই স্থগিতাদেশ এসেছে।
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ এখন শান্ত, শহরে জীবন ও বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ এখনও আংশিক ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে। অন্যান্য শহর থেকেও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ২ হাজার ৭৯৭ জনে পৌঁছেছে এবং এই সংখ্যা বাড়ছে।
ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিক্ষোভে সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন সরে না আসেন।
ট্রাম্পের এই বিরল প্রশংসা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে কারণ, এর আগে তিনি একই ইরানকে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি ইরানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: এপি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম