রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সৌদি আরবে নতুন করে বিশাল স্বর্ণভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাদেন (Ma’aden) জানিয়েছে, চারটি পৃথক স্থানে মোট ৭৮ লাখ আউন্স, অর্থাৎ দুই লাখ ২১ হাজার কেজিরও বেশি স্বর্ণের মজুদ শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের মোট স্বর্ণ মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মাদেন জানায়, দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই পরিকল্পিত অনুসন্ধান ও ড্রিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৯০ লাখ আউন্স স্বর্ণের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন এই স্বর্ণের মজুদ পাওয়া গেছে মাদেনের প্রধান প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং সদ্য আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও এলাকায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে, যেখানে গত বছরের তুলনায় স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে পাওয়া গেছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স স্বর্ণ। আর নতুন ওয়াদি আল জাও এলাকায় প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদের সন্ধান মিলেছে।
মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানো এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই প্রতিফলন। তার ভাষায়, এসব ফলাফল প্রমাণ করে যে মাদেনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কারণেই সৌদি আরবের স্বর্ণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চারটি পৃথক স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কার মাদেনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ। এতে কোম্পানির স্বর্ণ পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নগদ আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
মাদেন জানায়, ২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মধ্য সৌদি আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে নতুন খনিজ অঞ্চল শনাক্ত করা হয়েছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণ খনি এলাকাতেও নতুন খনিজ স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল দীর্ঘায়িত করতে সহায়ক হবে।
কোম্পানির তথ্যমতে, তাদের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ খনিতে বর্তমানে আনুমানিক ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদ রয়েছে। এসব আকরিক থেকে প্রতি টনে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম হারে মোট এক কোটি চার লাখ আউন্স স্বর্ণ আহরণের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের ফলে এই প্রকল্পে এক বছরেই নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া মানসুরা ও মাসারাহ খনির গভীর স্তরে আরও খনিজ আকরিকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদেন। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।
সূত্র: গালফ নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা