স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, ইরানে এখনো পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। নিহতদের ময়নাতদন্ত চলছে। তবে সশস্ত্র লোকজন আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে যায়, তাদের গুলিতে অনেক মানুষ মারা যায়।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার ইরান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের জানান, ইরানে প্রথম তিন দিন আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে সহিংস হয়। জানুয়ারির ৭ তারিখের পর সহিংসতায় রূপ নেয়। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। আন্দোলনকারীরা দোকানদারদের বের করে আন্দোলনে যোগ দিতে বলে। তারা হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায়। যদি নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ না করতো, তবে ব্যাপক বিপর্যয় হতো।
তিনি বলেন, প্রথমে যখন তারা হামলা করে তখন পুলিশ স্বাভাবিকভাবে দমন করতে থাকে। তবে যখন ৮ জানুয়ারির পর অস্ত্রধারীরা ঢুকে পড়ে, তখন পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। ৮ জানুয়ারির পর যখন আন্দোলনে সন্ত্রাসীরা ঢুকে যায়। তখন প্রতিটি রাস্তায় সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে সরাসরি সিআইএ ও মোসাদ জড়িত।
ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আমেরিকা সবসময় হস্তক্ষেপ করছে ইরান সরকারের পতনের জন্য। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও আমরা তা দেখি। তারা সবসময় এটা করে। আফগানিস্তান ও ইরাকে বহু বছর আমেরিকা ছিল। আর এসব দেশের সাথে ইরানের সীমান্ত আছে। সেখানে বহুদিন ধরে একটা গ্রুপকে আমেরিকা প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশের মিডিয়া এই আন্দোলন দমনকে অন্যভাবে তুলে ধরে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শুধু স্লোগান হয়। কিন্তু সেটা সহিংসতায় রূপ নিলে কোনো সরকার চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার আগে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মানুষকে উত্তেজিত করছিল। সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছিল। এটা স্বীকার করতে হবে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে খুব বেশি ভালো নেই। এটাই তারা কাজে লাগাতে চেয়েছিল। আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক কারণে। আমার আপনাদের কাছে প্রশ্ন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা কেন খারাপ?
তিনি বলেন, আমরা আমেরিকার সাথে ফাইভ প্লাস চুক্তি করেছিলাম আলোচনার জন্য। সেটা তারা ভঙ্গ করেছে। আমরা আমেরিকার সাথে আলোচনারত অবস্থায় ইসরায়েল হামলা করেছিল, ফলে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়। কেন তারা হামলা করল? ইরান একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আপনারা খুঁজে বের করেন কেন ইরানের ওপর এত চাপ?
ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, ১০ জানুয়ারির পর থেকে সব শহরে শান্তিপূর্ণ অবস্থা চলছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। যারা অপরাধী তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ চায়নি যুদ্ধ হোক। তবে ইরান আক্রান্ত হলে এ অঞ্চলে যত মার্কিন ঘাঁটি আছে ইরান সেখানে আক্রমণ করবে।
তিনি বলেন, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র নেই। আমাদের যে মিসাইল আছে, সেটা দিয়ে আমরা মোকাবিলা করতে পারব। আমেরিকা আসলে তেল-গ্যাস চায়। এটা দিলে তখন আর কোনো মানবাধিকারের কথা আসবে না। আর ইরান পরামাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায়।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানজুড়ে স্টারলিংকের মতো অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। আর বিক্ষুব্ধ মানুষগুলোকে পুঁজি করে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানজুড়ে হয়েছে সহিংসতা। আর এ কারণেই ইরানে বিক্ষোভে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব