সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, র্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম র্যাব ও চট্টগ্রাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার বিকেলে পতেঙ্গা ব্যাটালিয়নের একটি দল জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে এক র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন এবং তিনজন সদস্য দুর্বৃত্তদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। আহত সদস্যকে দ্রুত উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। বহিরাগতদের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ রেখে এলাকাটি সশস্ত্র পাহারায় নিয়ন্ত্রিত হয়।
জঙ্গল সলিমপুরের মোট আয়তন প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, লিংক রোডসংলগ্ন এই এলাকায় প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। সে হিসাবে দখল হয়ে থাকা সরকারি খাস জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চলছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। এতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ দুটি পক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হন। এর পরদিন সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
এর আগেও একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান ও পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের অভিযানে হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও র্যাব, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে বাহিনীর যানবাহন প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যায়। এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, ফলে এককভাবে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাস জমিতে কারাগার, আইটি পার্কসহ অন্তত ১১টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও জমি উদ্ধার না হওয়ায় এখনো কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/ এসএন