আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার বলেন, ইউরোপ কখনোই দুশমনদের কাছে নতিস্বীকার করবে না বা ভীত হবে না। তিনি এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং জোরপূর্বক শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে।
ডাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা শক্তিশালীদের আইন নির্বাহী গ্রহণ করি না। এভাবে করলে আমরা ভাসালের মতো হয়ে যাব। তিনি আরও যোগ করেন, ইউরোপ ভৌগলিক সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসন রক্ষায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে, এমনকি বিশ্ব যখন নিয়মবিহীন হওয়ার দিকে এগোচ্ছে তবু। ইউরোপের পক্ষ থেকে প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে শক্তিশালী বাণিজ্য শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা দুশমনদের তুলনায় সম্মানকে অগ্রাধিকার দিই, এবং বর্বরতার তুলনায় আইনের শাসনকে বেশি প্রাধান্য দিই। তাঁর চোখে রক্তক্ষরণ হওয়ায় এভিয়েটর সানগ্লাস পরে বক্তৃতা দেন।
এদিকে ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্রান্সের ও ইউরোপের অন্য মিত্র দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর কড়া শুল্ক আরোপ করা হবে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড দখলের অনুমতি না দেওয়া হয়। ইউরোপের শীর্ষ নেতারা এই হুমকিকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ওয়াশিংটনের নতুন শুল্কের ধারাবাহিক আরোপ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন এটি ভৌগলিক সার্বভৌমত্বকে নিয়ে প্ররোচনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ইউরোপীয় নেতারা জরুরি বৈঠকের জন্য বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে সম্মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রয়োজন হলে ফেব্রুয়ারি ৬ থেকে ট্রাম্পের জন্য পূর্ব নির্ধারিত ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পণ্যের শুল্ক কার্যকর করা যেতে পারে। ম্যাক্রোঁ ইউরোপকে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি-কোর্সন ইনস্ট্রুমেন্ট বা “ট্রেড বাজুকা” ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়েছেন, যা মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণ সীমিত বা প্রযুক্তি পরিষেবা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তিনি বলেন, এপর্যন্ত পরিস্থিতি পৌঁছানো অবাস্তব।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: রয়টার্স