রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর ধানমণ্ডি-২ এলাকায় মুখ ও দাঁতের সব ধরনের চিকিৎসাসেবার পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল (এডিএম) হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি একটি আধুনিক ও হাই-টেক স্পেশালাইজড ডেন্টাল হাসপাতাল, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা, আউটডোর ও ইনডোর সুবিধার পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থাকবে। শতাধিক চিকিৎসকের সমন্বয়ে পরিচালিত এ হাসপাতালে ডেন্টিস্ট্রির সব বিভাগের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সেবা প্রদান করবেন।
এডিএম হাসপাতালে মুখ ও দাঁতের জটিল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি মুখের ক্যান্সার, টিউমার, চোয়ালের সব ধরনের অস্ত্রোপচার, আঁকা-বাঁকা দাঁতের চিকিৎসা, অ্যান্ডোডন্টিক চিকিৎসা, শিশু দন্তরোগসহ ডেন্টাল ও ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারির সব ধরনের আধুনিক সেবা পাওয়া যাবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহীনুল আলম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “ডেন্টালের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের হাই-টেক ডেন্টাল হাসপাতাল বাংলাদেশের রোগীদের জন্য আশীর্বাদ।” তিনি আরও বলেন, অনেক হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে; তা কমাতে হলে চিকিৎসা কার্যক্রম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এ হাসপাতালের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডেন্টিস্ট্রি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুনভাবে পরিচিতি পাবে।
এ ছাড়া দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, উন্নত অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে রাশিয়ান অ্যাম্বাসির ডিরেক্টর অব হাউস খ্লেভনয় আলেক্সান্দ্রা আলেক্সান্দ্রভনা বলেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশ যৌথভাবে এডিএম হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করবে এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে রাশিয়ার দরজা উন্মুক্ত থাকবে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোস্তাফিজ হাসপাতালটিকে বিশ্বমানের একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাপ্পোরো ডেন্টালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন বলেন, এখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা থাকবে।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. গোলাম মহীউদ্দীন চৌধুরী বলেন, হাসপাতালের উন্নয়নে সবাইকে নিরলসভাবে কাজ করে যেতে হবে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা চিকিৎসা পদ্ধতি ও সেবাসম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা