ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবার বাংলাদেশ জামায়াতকে নয়, বরং মুক্তিকামী মানুষের দশদলীয় ঐক্যের ঠিকানায় ভোট দেবেন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারবো না। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে।
শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুলের বড় মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন। সভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দশদলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ঘোষণা করেছি—আল্লাহ আমাদের সফলতা দিলে কাউকে বাদ দেব না। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে বাংলাদেশ গড়ব। তবে তিনটি শর্ত মানতে হবে। এক—নিজে দুর্নীতি করা যাবে না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেওয়া যাবে না। দুই—ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, রাজনীতিবিদরা বিচারে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। তিন—৫৪ বছরের পচা রাজনীতি, দুঃশাসন, চাঁদাবাজি ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কোনো একক দলের শাসন চাই না, চাই জনগণের শাসন। যারা দেশকে ভালোবাসে এবং আধিপত্যবাদ মেনে নেয় না—তাদের সবাইকে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়ব।
উত্তরবঙ্গ নিয়ে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের নির্বাচিত করেন, তবে গোটা উত্তরবঙ্গকে বাংলাদেশের গৌরবের কৃষি রাজধানীতে পরিণত করব। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বেকার ভাতা দিয়ে জাতিকে অপমান করতে চাই না। আমরা সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। চাকরিতে প্রবেশের আগে দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজন হলে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে মাসে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। অথচ যুগের পর যুগ বৈষম্যের শিকার এই অঞ্চলের কৃষক। সহজ শর্তে বিনা সুদে ঋণ ও আধুনিক প্রযুক্তি দিলে উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হলে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা লুটপাট করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। উন্নয়ন আগে যাবে বঞ্চিত মানুষের দুয়ারে। আমরা বৈষম্য করব না, আল্লাহকে ভয় করে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করব।
জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি