আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মাইনিয়াপোলিসে হাজার হাজার মানুষ তীব্র শীতে বেরিয়ে প্রতিবাদ করেছে। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতি ও আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) অভিযান বন্ধ এবং শহর থেকে আইসিই সরিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে।
শুক্রবারের প্রতিবাদ মিছিলে তাপমাত্রা নেমে ছিল মাইনাস ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (মাইনাস ২০ ফারেনহাইট) পর্যন্ত। আয়োজকদের দাবি, ৫০ হাজার মানুষ মিছিলে অংশ নেন,যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অনেক অংশগ্রহণকারী পরে ২০,০০০ আসনের টার্গেট সেন্টার নামের ইনডোর অ্যারিনায় সমবেত হন।
প্রতিবাদকারীরা “ICE OUT!” স্লোগানকে কেন্দ্র করে সাধারণ ধর্মঘটের মতো কর্মসূচি পালন করে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মিনেসোটার বিভিন্ন স্থানে ডজন ডজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই দিনে বন্ধ রাখে।
মিছিল ও প্রতিবাদ পর্বটি এমন এক সময়ে সংগঠিত হয় যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিই এজেন্টদের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সময় সময় সহিংস সংঘর্ষ দেখা গেছে। ট্রাম্পের শীর্ষ পর্যায়ের ইমিগ্রেশন অভিযানের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ তীব্র প্রতিরোধ জানাচ্ছে।
=প্রতিবাদকারীরা আইসিই এজেন্টের বিরুদ্ধে রেনি গুড নামের এক মার্কিন নাগরিককে গাড়িতে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় আইনি জবাবদিহিতা দাবি করেছে। গুডকে এই মাসে হত্যার ঘটনাটি মাইনিয়াপোলিসে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
এ ছাড়াও, মাইনিয়াপোলিস-সেন্ট পল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নাটকীয় প্রতিবাদে পুলিশ ডজন ডজন ধর্মগুরুকে গ্রেপ্তার করে। তারা সড়কে হাঁটু গেড়ে গেয়া গান গাইতে এবং প্রার্থনা করতে করতে আইসিইকে তৎক্ষণাৎ এলাকাটি ত্যাগ করার আহ্বান জানায়। পুলিশ তাদের জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে বাসে তুলে নিয়ে যায়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ১০০ জন ধর্মগুরু গ্রেপ্তার হন।
ফেইথ ইন মিনেসোটা নামে একটি বেসরকারি সংগঠন এই প্রতিবাদ আয়োজনে সহায়তা করেছে। তারা দাবি করেছে, বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন কর্মীদেরও কাজের জায়গা থেকে আইসিই গ্রেপ্তার করেছে। সংগঠনটি বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা মিনেসোটার জনগণের পাশে দাঁড়াক এবং আইসিই-কে রাজ্য থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানাক।
অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন বার, রেস্তোরাঁ ও দোকানও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বন্ধ ছিল যা আয়োজকদের মতে, ফেডারেল সরকারের এই অভিযানবিরোধী সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য প্রতিবাদ।
স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন ইনডিজেনাস প্রটেক্টর মুভমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট র্যাচেল ডায়ন-থান্ডার বলেন, আইসিইয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল দখল চালাচ্ছে এটি ডকোটা ভূমিতে অনুপ্রবেশের মতো উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প ২০২৪ সালে ইমিগ্রেশন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রয়ে নির্বাচিত হন। তবে তার প্রশাসনের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন শহর ও রাজ্যে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারীদের ব্যাপক মোতায়েন রাজনৈতিক বিভাজন বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রেনি গুড হত্যার পর, একজন মার্কিন নাগরিককে তার বাড়ি থেকে অর্ধবস্ত্র অবস্থায় গ্রেপ্তার, এবং স্কুলছাত্রসহ শিশুর গ্রেপ্তার নিয়ে জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
মিনেসোটায় অবস্থানরত বহু বড় কোম্পানি যাদের মধ্যে কয়েকটি ফর্চুন ৫০০ তালিকাভুক্ত এখনও এই ইমিগ্রেশন অভিযানের বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি। আল জাজিরা
রিপোটার্স ২৪/এসসি