ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা ও অপমৃত্যুর পৃথক তিনটি ঘটনায় এক শিশু, এক গৃহবধূ এবং এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায় ট্রাকচাপায় মো. তাজবির নামে ২১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত তাজবির ওই এলাকার মো. সেলিম ইসলামের একমাত্র ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু তাজবির তার দাদার পান দোকানের সামনে খেলছিল। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৬-৯৬০১) তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন শোকাতুর বাবা সেলিম ইসলাম।
১৭ দিনের সন্তান রেখে পুকুরে মিলল মায়ের মরদেহ
এদিকে গত ২৩ জানুয়ারি সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে লিপি রানী পাল (২৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত লিপি রানী পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার দিনা কুমার পালের স্ত্রী। মাত্র ১৭ দিন আগে তিনি একটি পুত্রসন্তানের মা হয়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার পর থেকে লিপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ভোরে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে তার স্যান্ডেল ও বেল্ট পড়ে থাকতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে ডুবুরি দল পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করেছে।
অপর এক ঘটনায় সদর উপজেলার আলমপুর এলাকায় সুবোধ প্রিয়তম রায় (২৮) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত ২২ জানুয়ারি ভোরে বাড়ির অদূরে একটি কাঁঠাল গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। নিহতের বাবা নিপেন্দ্র নাথ রায় জানান, তার ছেলে দীর্ঘ ৫–৭ বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই বাড়িতে ঝগড়া করত এবং আত্মহত্যার হুমকি দিত। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই তিনটি ঘটনার বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, “আমরা তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। শিশু তাজবিরের ঘটনায় চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি; ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু। আর মাদকাসক্ত যুবকের আত্মহত্যার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিটি ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন