নীলফামারী প্রতিনিধি: গণভোটের প্রচার জোরদার ও ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা ইমাম সম্মেলন। জেলা প্রশাসন নীলফামারী ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপ-পরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম-এর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোস্তাফা মনসুর আলম খান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবীর সরকার, মাওলানা মোহাম্মদ আবুল কালাম কাসেমী, নীলফামারী আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ মুছা এবং কেন্দ্রীয় বড় মসজিদের খতিব মাওলানা খন্দকার আশরাফুল হক নূরী।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে উভয় পক্ষের ভূমিকা থাকবে। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক থাকবে এবং কোনো দল এককভাবে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
বক্তারা আরও জানান, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচনের সুযোগ থাকবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। পাশাপাশি সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
সম্মেলনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মৌলিক অধিকারের পরিধি সম্প্রসারণ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করার নিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাধীন ক্ষমার সুযোগ সীমিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ইমাম, আলেম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম