চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,কিছু দল ভোটকে ধর্মের সঙ্গে জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ধোঁকাবাজি থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পাবে। বিএনপি এমন একটি সরকার গঠন করতে চায়, যে সরকার হবে জনগণের সরকার যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের মতামত ও অধিকার সমানভাবে মূল্যায়িত হবে।
তিনি বলেন, আপনার ভোট আপনি দেবেন, যাকে ইচ্ছা তাকে দেবেন। এটাই গণতন্ত্র। ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে বাংলাদেশে আর কখনো গুম, নিখোঁজ কিংবা ভোটাধিকার হরণের মতো ঘটনা না ঘটে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে আর কোনো মানুষ গুমের শিকার হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বলেন, কোনো মাকে যেন আর সন্তান হারানোর বেদনায় কাঁদতে না হয় এমন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তা যদি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপিকেই ভোট দেবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও তাদের কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরবে, জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে জনগণের পাশে রয়েছেন। কারাবন্দি থাকার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করায় তিনি চকরিয়ার মানুষের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার জীবনও হুমকির মুখে পড়েছিল। একসময় দেশে মুক্তভাবে কথা বলা ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল না। সেই অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনতেই বিএনপি আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছে।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি