ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঋণের চাপ আর ছোট ভাইয়ের গ্রেপ্তারের ধাক্কা—দুয়ের ভার একসঙ্গে বইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক ইউপি সদস্যর।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে আব্দুল জব্বার (৫০) নামের ওই ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জব্বার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশায় কৃষিজীবী হলেও এলাকায় একজন পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে এক কৃষক মাঠে কাজ করতে গিয়ে ভুট্টাক্ষেতে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী বলেন, ‘সকালে জব্বার স্বাভাবিক ছিলেন। বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করে বের হয়েছিলেন। হঠাৎ শুনি তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এই খবরে আমরা সবাই স্তব্ধ।’
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জব্বার বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাওনাদারেরা একযোগে চাপ দিতে থাকেন। এর মধ্যেই সোমবার রাতে তার ছোট ভাই ফারুক হোসেন চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার হন। এসব কারণে মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন জব্বার।
প্রতিবেশী মজিবুর রহমান বলেন, ‘ঋণের বোঝা বহু দিন ধরেই তাকে কষ্ট দিচ্ছিল। ভাইয়ের গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। হয়তো সেই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব