নীলফামারী প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর) আসনে ভোট প্রার্থনায় দেখা গেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায়ও মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। মাইকিংয়ে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় গান ও গজলও পরিবেশন করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর শহরে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ উর্দুভাষী (বিহারি) ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রার্থীদের ভাষ্য, উর্দুভাষী ভোটারদের কাছে নিজেদের নাম, প্রতীক ও বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতেই উর্দু ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে। এতে করে ওই ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারছেন কে কোন প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
তবে ভিন্ন ভাষায় মাইকে প্রচারণার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি অনেকে। তাদের দাবি, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একসময় উর্দুকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালি জাতি দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলার পরিবর্তে উর্দু ভাষায় মাইকিং করা ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অনেকের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, অবাঙালিরাও বাংলাদেশের নাগরিক। ফলে উর্দুভাষী নাগরিকদের কাছে তাদের মাতৃভাষায় ভোট প্রার্থনা করায় দোষের কিছু নেই।
এ বিষয়ে উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, উর্দুভাষীরাও এখন এ দেশের নাগরিক। আমরা ভোটাধিকার পেয়েছি, এটাই তার প্রমাণ। তবে নির্বাচন এলেই অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়—বাড়ি, রাস্তা, জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই হয় না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দেশের উন্নয়ন হলেও আমাদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। তবুও এবারের নির্বাচনে আমরা আশাবাদী। দেশে পরিবর্তনের হাওয়া এসেছে, আশা করছি আগামী দিনের জনপ্রতিনিধিরা উর্দুভাষীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।