নীলফামারী প্রতিনিধি: বাংলাদেশে দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে দেশ অল্প সময়ের মধ্যেই সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নীলফামারী শহর জামায়াতের আমির ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই নিপীড়করাই আজ দেশছাড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থামেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করে জনগণকে সেই সংগ্রামে শরিক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিই দেশের সব সমস্যার মূল। দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বাংলাদেশ খুব দ্রুত উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গত দেড় দশকে যারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে, তাদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে। তিনি জামায়াত আমিরের ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে দেশের ‘কৃষি রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং বেকারত্ব দূর করতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে দলের অন্যতম অগ্রাধিকার।
নীলফামারী-২ (সদর) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে নীলফামারীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়নসহ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে আমি কাজ করব।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জনসভাকে ঘিরে নীলফামারী সদর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হন। ফলে শহীদ মিনার চত্বর এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি