অভয়নগর (যশোর)প্রতিনিধি : যশোর ৪ আসন ( অভয়নগর, বাঘারপাড়া উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) নির্বাচনী এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশে প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চালাচ্ছেন পথসভা ও গণসংযোগ। নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে চলছে মাইকিং। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা মূল ২ প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করছে এলাকার ভোটাররা।
ধারণা করা হচ্ছে যিনি ‘সংখ্যালঘু’ ভোট টানতে পারবেন তিনি জয়ী হবেন। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৯ জন। যার মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন প্রায় ৯০ হাজার ।
সংখ্যালঘুদের ভোট এক সময় আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হলেও এই ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে প্রার্থীরা বারবার তাদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন । ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার সমাধান, ভৈরব নদের নাব্যতা ফেরানো, সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান,মাদক ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি ইত্যাদিই হচ্ছে তাদের প্রতিশ্রুতি।
পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি পাল্টে দিতে পারে সব হিসাবনিকাশ।
এবারের নির্বাচনে যশোর ৪ থেকে ৭ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। তারা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকে ফারজী মতিয়ার রহমান, দাড়িপাল্লা প্রতীকে অধ্যাপক গোলাম রসুল, হাতপাখা প্রতীকে বায়োজিদ হোসেন, লাঙ্গল প্রতীকে জহুরুল ইসলাম, রকেট প্রতীকে সুকৃতি কুমার, দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে আশেক এলাহী, মটর সাইকেল প্রতীকে নাজিম উদ্দিন।
অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে কয়েকজন স্থানীয় লোকের আলাপে উঠে আসে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষর ভাবনা। অধিকাংশের মতামত মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ আর দাড়িপাল্লার মাঝে।
স্থানীয়দের মতে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফারাজী মতিয়ার রহমান দীর্ঘদিন বিএনপির অভয়নগর উপজেলার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সেই হিসাবে অভয়নগরে তার নিজের শক্ত একটা সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে।
দাড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুলের দলীয় মনোনয়ন অনেক আগেই নিশ্চিত হওয়াতে তিনি জনসংযোগ আগে থেকেই শুরু করায় প্রচারণায় তিনি তার প্রতিদন্ধী প্রার্থীর তুলনায় কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছেন। এই দুইজনের পাশাপাশি হাতপাখা কিছু ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জামায়াতের নারী কর্মীরা দীর্ঘদিন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে নারী ভোটারদের বুঝিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান তৈরি করেছেন। নতুন ভোটারের বড় একটি অংশকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত কর্মী বাহিনী ও নিজস্ব ভোটাররা।
সংখ্যালঘু ভোটারদের অধিকাংশই নিরবতা পালন করেছেন। গ্রামপর্যায়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেওয়া তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভোটের মাঠে যাওয়ার ইচ্ছা তাদের নেই। তারপরও যদি যেতে হয় তাহলে সার্বিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন।
তবে সাধারণ ভোটাররা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন যে যে ব্যাক্তি সবসময়ই তাদের পাশে থাকবে সে রকম সৎ এবং উন্নয়নমূলক কাজ করবে এমন কাউকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তারা এবার ।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু