রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নতুন ইউরোপীয় গবেষণায় উঠে এসেছে, বাজারের অনেক জনপ্রিয় হেডফোনে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এসব হেডফোন ব্যবহারে ক্যানসারসহ অন্যান্য গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’ প্রকল্পের আওতায় ৮১টি ইন-ইয়ার ও ওভার-ইয়ার হেডফোন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটি হেডফোনে হরমোন সিস্টেম ব্যাহতকারী রাসায়নিক উপস্থিত রয়েছে। বোস, প্যানাসনিক, স্যামসাং ও সেনহাইজারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনও এ ঝুঁকির আওতায়।
গবেষকরা মূলত এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং (হরমোন ব্যাহতকারী) রাসায়নিক পরীক্ষা করেছেন। এতে বিপিএ (বিসফেনল–এ) ও বিপিএস (বিসফেনল–এস) পাওয়া গেছে, যা মানবদেহে ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করতে পারে। এর ফলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি আগেভাগে শুরু, পুরুষদের হরমোন পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরীক্ষিত হেডফোনের প্রায় ৯৮%–এ বিপিএ এবং তিন-চতুর্থাংশে বিপিএস পাওয়া গেছে। কিছু হেডফোনে এই রাসায়নিকের মাত্রা প্রতি কেজিতে ৩১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ইউরোপীয় কেমিক্যালস এজেন্সির নিরাপদ সীমা (১০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি) অনেক বেশি। বিশেষভাবে সেনহাইজার অ্যাকসেন্টাম ট্রু ওয়্যারলেস এবং বোস কুইটকমফোর্টে সীমা অতিক্রম করেছে।
গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে ঘামের সঙ্গে রাসায়নিকগুলো ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। টক্সফ্রি লাইফ ফর অল-এর প্রধান এমেসে গুলিয়াস ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের দ্রুত হরমোন-ব্যাহতকারী সব রাসায়নিক নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
সূত্র: ডেইলি মেইল
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম