টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘‘এখন অনেকেই লম্বা লম্বা কথা বলেন। মার্চ ফর ডেমোক্রেসির ( ২৯ নভেম্বর ২০১৩) দিনেই হাসিনার বিদায় হওয়ার কথা ছিল। ওইদিন রাজপথে নেমে আমাদের নেতাকর্মী শহীদ হলেন। কিন্তু এখন যারা লম্বা লম্বা কথা বলেন ওই দিন তাদের ফোন বন্ধ ছিল। যার কারণে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের বাড়ির বাইরে বেরোতে পারিন নাই। বালির ট্রাকের সামনে আটকে গিয়েছিলেন। ওইদিন তার পাশে কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না। তার সঙ্গে ছিলেন শুধু গৃহকর্মী ফাতেমা। ওইদিন কই ছিলেন আপনারা?’’
মঙ্গলবার টাঙ্গাইল শিল্পকলা অডিটরিয়ামে এক প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। টাঙ্গাইল জেলা জামায়াত এই প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে। এতে জুলই বিপ্লবে দুইজন শহীদের মা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘‘সংস্কার ছাড়া নির্বাচন মানে আওয়ামী স্টাইলের নির্বাচন। কিন্তু আওয়ামী স্টাইলে নির্বাচেনের জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি। হাজার হাজার মানুষ জীবন দেয়নি। হাজার হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করে নাই। শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য এতো মানুষ রক্ত দেয় নাই। জুলই বিপ্লব হয়েছে বাংলাদেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য। আর সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য প্রয়োজন সংস্কার। আর সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।’’
‘‘এখন অনেকে বলেন আমরা ক্ষমতায় গিয়ে সংস্কার করবো। অতীতে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন, কি করেছেন দেশের মানুষ জানে। ভবিষ্যতে যে সংস্কার করবেন তার গ্যারান্টি কি’’, প্রশ্ন রাখেন জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারী।
রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই সংগ্রাম করেছি। আমাদের ছাত্র সমাজ যে আন্দোলন শুরু করেছিল তাতে দেশের সব শ্রেনী পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের মহাসচিব বলেছিলেন, এই আন্দোলন ছাত্রদের আন্দোলন এতে আমাদের সম্পর্ক নাই। এই আন্দোলন যে সফল হবে তা তিনি জানতেন না।’’
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই বিপ্লবে ২ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। ৩৫ হাজার আহত হয়েছে। এই বিরাট ও ত্যাগ ও কোরবানির বিনিময়ে ফ্যাসিবাদীরা পালাতে বাধ্য হয়েছে। শুধু তাদের প্রধানমন্ত্রী পালাননি। পালিয়েছেন ওনার মন্ত্রী পরিষদ, নেতানেত্রী ও বিচারকরাও । শুধু তাই নয়, বায়তুল মোকাররমের খতিব পর্যন্ত পালিয়েছে। এরকম ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আছে এরকম পালানোর ঘটনা কিনা আমার জানা নেই।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘পহেলা আগস্ট জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। শিবির এবং আমাদের ছাত্রীদের সংগঠন ছাত্রীসংস্থাকে নিষিদ্ধ করেছিল। আমারা তো বাঁচার জন্য পালাইনি। আমরা পালানোর চিন্তাও করি নাই। আপনারা কেনো পালালেন ?’’
জুলাই বিপ্লবের পর জামায়াতের অবস্থান ও বক্তব্য একদম পরিস্কার জানিয়ে তিনি বলেন,‘‘ জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের বিচার করতে হবে। বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। রায় কার্যকর করতে হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গণহত্যার সঙ্গে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে লোক জড়িত। দেশের সব মানুষ এই হত্যার বিচার চায়। কিন্তু অনেকের মুখে বিচারের কথা নেই। একটি গোষ্ঠি চায় না। ফ্যাসিবাদের দোসররা সরকারের ভেতরে বাইরে আছে। তাদের চিহিৃত করে বিচার করতে হবে। তারা এখনো আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে।’’