কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয়ে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাতজন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে বর্তমানে দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে—একটি শীতকালীন, অন্যটি গ্রীষ্মকালীন। শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে এবং অনেক কৃষক এ চাষ করে থাকেন। মৌসুমের শুরুতে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকেন। তবে ধীরে ধীরে বাজারে টমেটোর আমদানি বাড়লে দাম কমে যায়। সে কারণে অনেক সময় চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে কোটচাঁদপুরে টমেটো চাষ শুরু হয়েছে। এ বছর উপজেলায় মাত্র ৭ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড-৮ জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে।
তালসার গ্রামের টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি মূলত টমেটো চাষ করছেন। বর্তমানে বছরে দুইবার টমেটোর চাষ করা যায়। তিনি জানান, আগে শীতকালীন টমেটো চাষ করে ভালো উৎপাদন পেয়েছেন। গত তিন মাসে তিনি ৭ কাঠা জমি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা রোপণ করছেন, যা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ ও সেচ কম লাগে। পাশাপাশি শ্রমিক খরচও কম হয়। কারণ চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ ও সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর চারা রোপণের জন্য বেড তৈরি করে পলিথিন দিয়ে মালচিং করা হয়। নির্দিষ্ট স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না এবং মাটিতে আর্দ্রতা বজায় থাকে। ফলে ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
তিনি আরও জানান, একবার মালচিং করলে একই পদ্ধতিতে দুই থেকে তিনবার চাষ করা যায়। এতে পরবর্তী চাষের খরচ আরও কমে যায়। মালচিং করা, চারা রোপণ, সার ও ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১০ হাজার টাকা হতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং উৎপাদন ভালো হলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি এ পদ্ধতিতে চাষ করতে চান, তবে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা নিতে পারবেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর উপজেলায় মাত্র ৭ দশমিক ৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড-৮ জাতের টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয়ে ফসল উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এছাড়া কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে সাতজন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটোর বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি থাকে এবং উৎপাদনও ভালো হয়। উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে প্রতি বিঘায় ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন