আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে এক ধরনের নীরবতা নেমে এসেছে। আকাশে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা আর নিচে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা,এই দুইয়ের মধ্যে ইসরায়েলের জনজীবন অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে এবং বড় ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে যুদ্ধবিরোধী মত প্রকাশের সুযোগও সংকুচিত হয়ে এসেছে।
কিছু বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ হলেও সেগুলো কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে হচ্ছে। সাইরেন বাজলেই বা জনসমাগম বাড়লেই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। ফলে ভিন্নমত প্রকাশ কার্যত কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘুমের অভাব, অনিশ্চয়তা এবং দৈনন্দিন চাপের কারণে অনেকেই প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক মত প্রকাশে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
ইসরায়েলের একটি বড় অংশ এখনো যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ধীরে ধীরে ক্লান্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত দূরবর্তী নেতৃত্বের হাতে,এমন অনুভূতি থেকে হতাশা বাড়ছে বলে মত দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণও বেড়েছে। সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, ক্ষয়ক্ষতি বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকদের মতে, সামরিক সেন্সরশিপের কারণে অনেক সময় হামলার প্রকৃত লক্ষ্য বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য আড়ালে থেকে যাচ্ছে। এতে করে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণের ধারণা সীমিত হয়ে পড়ছে।
তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ইসরায়েলে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা আঘাতের ঘটনা ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি