আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বার্তা সংস্থা আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে ইরানের মিত্ররা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে,যেমনটি কার্যত হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে ঘটেছে।
ইরানপন্থী শক্তিগুলো যদি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে,এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে, যা হয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করা যায়। এর এক পাশে ইয়েমেন এবং অন্য পাশে জিবুতি ও ইরিত্রিয়া অবস্থিত।এটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।
বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়; ২০২৪ সালে প্রায় ৪.১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে গেছে।বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালি-এর সঙ্গে একযোগে বাব আল-মান্দেবও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠী, যারা ইরানপন্থী ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর অংশ, ইতোমধ্যে অতীতে জাহাজে হামলার মাধ্যমে এই রুট অচল করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। কয়েকটি জাহাজে হামলা চালালেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে,ইউরোপে এশিয়ার পণ্য রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে শিল্প, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে প্রভাব ফেলাসহ সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ কেন্ডাল একে “দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতি” বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব,উভয় প্রণালিতে একসঙ্গে সংকট তৈরি হলে ইউরোপমুখী বাণিজ্য প্রায় অচল হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে,যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দেব বন্ধের হুমকি বৈশ্বিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি