আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় অবস্থিত, তা নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
কোথায় অবস্থিত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরান-এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ, যা প্রায় ৯ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে। দেশের বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র বড় শহর ও শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত। বিশেষ করে রাজধানী তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহানকে ঘিরে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘনত্ব বেশি। এছাড়া পারস্য উপসাগর উপকূলেও বড় বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস সহজলভ্য।
ইরানের কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো—
দামাভান্দ (পাকদাশত) বিদ্যুৎকেন্দ্র—তেহরানের কাছে, প্রায় ২,৮৬৮ মেগাওয়াট সক্ষমতা
শহীদ সালিমি (নেকা)—২,২০০ মেগাওয়াটের বেশি
শহীদ রাজায়ী (কাজভিন)—প্রায় ২,০৪৩ মেগাওয়াট
কারুন-৩ বাঁধ—জলবিদ্যুৎ, প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট
কেরমান বিদ্যুৎকেন্দ্র—প্রায় ১,৯০০ মেগাওয়াট
এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বান্দার আব্বাস বিদ্যুৎকেন্দ্র (হরমুজ প্রণালির কাছে)
বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ইরান
ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই গ্যাসনির্ভর।
প্রায় ৮৬% বিদ্যুৎ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রায় ৭%
জলবিদ্যুৎ প্রায় ৫%
পারমাণবিক শক্তি প্রায় ২%
নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান এখনো খুবই কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে কী হতে পারে
দেশের শিল্প ও নগরজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাস্থ্য, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে
আঞ্চলিকভাবে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে
বিশেষ করে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঝুঁকি থাকলে তা কেবল ইরান নয়, আশপাশের দেশগুলোর জন্যও বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী এবং তা ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি