আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান সংঘাতে সুদানে মানবিক পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। সহিংসতা অব্যাহত থাকা, মৌলিক সেবার ভেঙে পড়া এবং অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে বিশ্বে দ্রুততম মানবসৃষ্ট মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরলেও, তাদের বেশিরভাগই এমন এলাকায় ফিরে গেছে যেখানে সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কম যেমন রাজধানী খার্তুম, ব্লু নাইল ও গেজিরা অঞ্চল।
হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন জানায়, সুদানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৬ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার মধ্যে বাস করছেন। তবে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ যুদ্ধজনিত আঘাত, মানসিক ট্রমা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি বাড়ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সহিংসতা থেকে পালানো, ত্রাণ সহায়তা পাওয়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মারাত্মক বাধার মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে আগে পিছিয়ে পড়েন এবং সহিংসতা, নির্যাতন, বৈষম্য ও সামাজিক বঞ্চনার ঝুঁকিও তাদের ক্ষেত্রে বেশি থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে সুদানের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি