আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই আবার চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক,ওয়াশিংটন এই জলপথ খুলে দেবে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মেরিল্যান্ডে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার ঠিক আগ মুহূর্তে তার এই বক্তব্য আসে।
ট্রাম্প বলেন, এটা সহজ হবে না, তবে আমরা খুব শিগগিরই প্রণালীটি খুলে দেব। তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগরের এ নৌপথ সচল রাখতে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ‘টোল’ বা ফি আরোপের যে উদ্যোগ তেহরান নিয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। যদি তারা এমনটা করে, আমরা তা হতে দেব না,সাফ জানিয়ে দেন ট্রাম্প।
ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি হলেও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ফি আদায় করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আন্তর্জাতিক নৌপথে একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষায়, পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা এটাই ৯৯ শতাংশ বিষয়। এটা নিশ্চিত হলেই প্রণালী স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে।
যদিও গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনো কার্যত স্থবির রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে মাত্র ২০–২৫টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করছে।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে ৬০০টিরও বেশি জাহাজ আটকে আছে, যার মধ্যে প্রায় ৩২৫টি তেলবাহী ট্যাংকার। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কার্যত প্রণালীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিজেদের জাহাজ বা মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা একটি ‘নিরাপদ করিডোর’ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল হচ্ছে।
এদিকে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে আলোচনার শর্ত ও কাঠামো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে সমাধান না হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদে চাপে থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি